পেশা হিসেবে মার্চেন্ডাইজিং
বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় একটি অংশ আসে তৈরী পোশাক শিল্প থেকে । আর তাই চাকুরী ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে দক্ষ মার্চেন্ডাইজারদের চাহিদা । প্রকৃত পক্ষে মার্চেন্ডাইজাররাই পুরো ব্যবসা দেখভাল করে বললে অত্যুক্তি হবে না । কারণ সিদ্ধান্ত নেয়ার কাজগুলো তাঁদেরকেই করতে হয় , আর বিনিয়োগ করেন মালিকগণ ।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার সাথে পেশার কোন ও সমন্বয় নেই । যেখানে বিশ্বের সমস্ত উন্নত দেশেসমূহে প্রচলিত শিক্ষার সাথে তাদের দেশের শিল্পকারখানাগুলোর একটা সমন্বয় আছে । যাতে করে ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা শেষ করেই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে, আমাদের মতো বেকারত্বের বোঝা না বইয়ে ।
মহামারী কোভিড-১৯ এর পরে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেছে সকল প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে । আর সেই ক্ষেত্রে বেড়েছে দক্ষ মার্চেন্ডাইজারদের। এই শিল্পে একমাত্র দক্ষরাই টিকে থাকতে পারে দীর্ঘ সময় ধরে।
সাধারণত স্নাতক শেষ করেই এই পেশাতে প্রবেশ করা যায় । কিন্তু এই পেশায় খুব ভালো করতে হলে বিজিএমইয়ে পরিচালতি বিইউএফটি তে (বিইউএফটি এর ওয়েব সাইট)মার্চেন্ডাইজিং এর উপর কোর্স গুলো করলে সামনে চলার পথগুলো আরো একটু মসৃণ হয় ।
এবং এই পেশায় আসতে হলে ইংরেজী ভাষার উপর অবশ্যই দক্ষ হতে হবে । তা না হলে বায়ারের সাথে ফলপ্রসূ যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেনা । আর যথাযথ ভাবে যোগাযোগ করতে না পারলে প্রতি ধাপে ধাপে আটকাতে হবে এই পেশায় । তাই খুব ভালো হবে যদি ইংরেজী ভাষার উপর কোন কোর্স করে নেয়া যায় ।
বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্পে মার্চেন্ডাইজাররাই মূলত সামনের সারির সৈনিক । মূলত যেকোন কার্যাদেশ (অর্ডার, স্টাইল, প্রোগ্রাম) এর শুরু থেকে পণ্য বায়ারের সেলস রুম/ শোরুমে (পণ্য বিক্রির দোকান) পৌঁছানো পর্যন্ত তদারকি করতে হয় সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ডাইজারকে ।
বায়ারের কাছে থেকে অর্ডার পাওয়ার পর রো ম্যাটেরিয়ালস সোর্সিং থেকে বায়ারের কাছ থেকে পণ্য উৎপাদনের অনুমোদন, বুকিং , প্রোডাকশন এবং রো ম্যাটেরিয়ালস ইনহাউজড করা পর্যন্ত প্রতেকটা স্টেজে মার্চেন্ডাইজারকে সঠিক ভাবে দিক নির্দেশনা দিয়ে কাজগুলো সম্পাদন করতে হয় । এবং এই কাজ গুলো করতে গিয়ে একটু ভুলের কারনে কোম্পানী মুখোমুখি হতে পারি বিশাল ক্ষতির । তাই এই কাজগুলো করার সময় অবশ্যই মাথা ঠান্ডা রেখে করতে হবে , যাতে ভুল না হয় ।
এর মধ্যে তাকে কাজ করতে হয় বিভিন্ন ব্যাকিং এবং কমার্শিয়াল টার্মস নিয়ে ও। যাতে করে পণ্য জাহাজীকরণ( শিপমেন্ট )করার ক্ষেত্রে কোনো রকমের ঝক্কি ঝামেলার মুখোমুখি না হতে হয় ।
প্রত্যেক পেশাতেই বেতন নির্ভর করে মূলত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার উপর । চাকুরীর শুরুতে একজন মার্চেন্ডাজারদের এর মাসিক বেতন ১০-১২ হাজার টাকা । যদিও বেতন ভাতার ব্যাপারটা কোম্পানী অনুযায়ী তারমত্য পরিলক্ষিত হয় । দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার উপর বেতনের ব্যাপারগুলো নির্ভর করে । চার থেকে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মার্চেন্ডাইজারের মাসিক আয় হয় ৩০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তারপর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার বা মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন পেতে পারেন। এক্ষেত্রে একজন মার্চেন্ডাইজারের ইংরেজি দক্ষতা ও যোগাযোগ করার দক্ষতা সেইসঙ্গে সততা , শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলা এবং স্মার্টনেস তাকে দ্রুত পদোন্নতিতে সাহায্য করে।
মার্চেন্ডাইজিং আসলেই একটি চ্যালেন্জিং পেশা । এই পেশার প্রতিটি পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করতে হয় , তা না হলে পুরো উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে বিলম্ব দেখা দেয় । আর শিপমেন্ট দেরী হলেই বায়ারের পক্ষ থেকে থাকতে হয় অনেক চাপে । বায়াররা তখন কথায় কথায় ডিসকাউন্ট, এয়ার শিপমেন্ট এবং অর্ডার বাতিলের হুমকি দিয়ে থাকে । তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যেকটা মার্চেন্ডাইজারদের জন্য ।
সব রকম পেশাতেই চ্যালেন্জ আছে । তাই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে অবশ্যই চ্যালেন্জ নিতে হবে । আর মজা খুঁজতে হবে চ্যালেন্জ নেয়ার মাঝেই ।
Comments
Post a Comment