হারিয়ে যাচ্ছে অনেক জীবন মোট্ সাইকেল দূর্ঘটনায়
আজ আমার পরিচিত গন্ডির মধ্যে ২ জন মানুষের মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর জানলাম । প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও এই রকম মৃত্যুর খবর দেখতেছি । পরিবারগুলো হারাচ্ছে তাঁদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি । ইদানিংকালে সড়ক দূর্ঘটনাগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই হচ্ছে মোটর সাইকেল সম্পর্কিত । আর আমাদের উঠতি বয়সী তরুণরাই বেশির ভাগ শিকার হচ্ছেন এই সকল দূর্ঘটনার।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আগে ও পরের ১০ দিন মিলেয়ে প্রায় ১১০ জন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন শুধুমাত্র মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় । আমাদের তরুণরা মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে ফ্যাশন/স্টাইল দেখানোর নামে । আজকের এই প্রজন্ম কেমন যেন অনেক উদ্ভ্রান্ত আর এলোমেলো । রাস্তাঘাটে বের হলে তাদের যেন আর সময় থাকেনা একটু ঠান্ডা মাথায়, ড্রাইভিং করার ।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা গবেষকেরা বলেছেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাগুলো মূলত ঘটে বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা, বারবার লেন পরিবর্তন, ট্রাফিক আইন না মানা ও চলন্ত অবস্থায় মুঠোফোনে কথা বলার কারণে। হেলমেট ব্যবহার না করা ও নিম্নমানের হেলমেটের কারণে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।
আজকাল এরকম অনেক দেখা যায় যে, দূর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি লাশ হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে, কিন্তু মাথায় আছে হেলমেট । কারণ হেলমেটগুলো গুণগতমাণ সম্পন্ন নয় ।
ইদানিংকালে মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর হার খুব বেশি পরিমাণে পরিলক্ষিত হচ্ছে । অভিভাবকেরা এক্ষেত্রে খুবই অসচেতন এবং আবেগী মনে হচ্ছে । খুব আদর করে ভালোবেসে তাদেরকে মোটর সাইকেলের সামনে বা পেছনে উঠিয়ে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে কিংবা নিয়ে যাচ্ছে বাজারে ঘুরতে । আর সামনে অথবা পেছনের দিক থেকে কোনো গাড়ি এসে ধাক্কা মেরে জীবন কেড়ে নিচ্ছে ।
এই রকম অহরহ ঘটছে, তারপরেও আমরা অভিভাবকেরা শিক্ষা নিচ্ছিনা, হচ্ছিনা সচেতন ।
আসুন আমরা মোটর সাইকেল এড়িয়ে চলি । কারণ বাংলাদেশের এই অপরিকল্পিত রাস্তাঘাটের প্রেক্ষাপটে ।
সময়ের চেয়ে জীবন যে অনেক মূল্যবান, এটা বুঝতে শিখি । আমাদের প্রজন্মকে আমরা এভাবে হারিয়ে না ফেলাই ।
তাদেরকে সামনে তুলে ধরি জীবনের মানে, জীবনের সৌন্দর্য, ধৈর্য্য, সহনশীলতা এসব ।
Comments
Post a Comment